,

Notice :
«» শাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে প্রথম হয়েছে শাহিলা চৌধুরী «» জগন্নাথপুরে প্রবাসীর উদ্যোগে রাস্তায় মাটি ভরাট «» স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রয়াত সভাপতি রমা দাসের জন্মদিন পালন «» সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক কর্মশালা «» হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন কমিটি গঠন «» ধর্মপাশায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন রনজিত সরকার «» কাজ-না-করা সরকারি প্রতিষ্ঠান দেশের উন্নতিকে পিছনে টানে «» পণ্য প্রদর্শনী মেলায় নিম্নমানের পণ্যের দাম অধিক «» তাহিরপুর-মধ্যনগরে ব্যারিস্টার ইমনের মতবিনিময়: নির্বাচনী এলাকায় নতুন আলোচনা «» শিক্ষক সংকটে দক্ষিণ সুনাগঞ্জের অধিকাংশ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম

জরুরিভিত্তিতে সুনামগঞ্জের খাল-বিল-নদী খনন করতে হবে

বাংলাদেশে নদী খনন একটি অপরিহার্য বিষয়। এখানে এই নদী খননের সামগ্রিক কার্যক্রম সেই ব্রিটিশামল থেকে অবহেলিত হয়ে আসছে। এমনকি ব্রিটিশামলে নদী খনন সীমিত আকারে যা’-ও একটু হতো সে’-টাও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকামলে একেবারে বন্ধ রাখা হয়। পাকিস্তানি স্বৈরশাসক উন্নয়নের চেয়ে শোষণের প্রতি বেশি মনোযোগী ছিল।
বৃষ্টিবহুল বর্ষা ভিন্ন অন্য ঋতুতে বা মৌসুমে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে স্বাভাবিক পানির প্রবাহ বইছে না, প্রকারান্তরে বর্ষা ভিন্ন অন্য সময়ে বাংলাদেশ পানি সঙ্কটে ভোগছে এবং পদ্মা-মেঘনা প্রভৃতি নদী শুকিয়ে চরে পরিণত হচ্ছে এবং দিনে দিনে নদীর গভীরতা কমে গিয়ে সারা দেশের নদীগুলোতে অনাব্যতার সঙ্কট সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে উপর অংশের (ভারতের অংশের) পানি প্রবাহ নিচের বাংলাদেশ অংশে তৈরি করছে প্রবল বন্যা, তলিয়ে দিচ্ছে ঘরবাড়ি, এমনকি ফসলি জমি। ভাটি অঞ্চলসহ বিশেষ করে সুনামগঞ্জের হাওরে ব্যাপক আকারে ঘটছে ফসলডুবির ঘটনা, গতবার যে-ফসলডুবির ঘটনা স্মরণাতীতকালের মধ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় তৈরি করেছে। এই বিপর্যয় কাটাতে বাংলাদেশকে নিতে হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
নদীখননে দীর্ঘদিনের অবহেলার খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে প্রতিদিন। নদীখননের অপরিহার্যতা অনুভূত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরকার কীছু কীছু কার্যক্রম গ্রহণও করেছেন এবং ইতোমধ্যে আংশিক কাজ সম্পন্নও হয়েছে। মোটকথা সুনামগঞ্জ জেলায় নদীখননের কাজ শুরু হয়েছে। পরিকল্পনানুসারে রক্তি, আপার বউলাই ও পুরাতন সুরমা নদীতে খনন কাজ চলছে। আপার বউলাইর প্রস্তাবিত ১৬ কিলোমিটার খননকাজের মধ্যে ১২ কিলোমিটার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং নলজুড়, চামটি নদীতে আশা করা যায় অচিরেই খনন কাজ শুরু হবে। তাছাড়া পাউবো’র হিসেবমতো প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার খাল-নদী খননের একটি পরিকল্পনা আছে। যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আশা করা যায়, সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল বা অতিবৃষ্টির কারণে নদীতে পানি বেড়ে গিয়ে হাওরডুবির কারণ হয়ে উঠবে না।
নদী, খাল, বিল ও হাওরের ফসলি মাঠের বর্তমান ভূপ্রাকৃতিক অবস্থা এমন যে, নদীর তলার অবস্থান ও হাওরবিলের তলার অবস্থান নদীভরাটের কারণে প্রায় সমতলে অবস্থান করছে। এমতাবস্থায় সুনামগঞ্জে নদী খনন বিষয়ে কালক্ষেপণের একটাই অর্থ, আর সেটি হলো সুনামগঞ্জের বোরো ফসলকে জলের তলে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ফেলে রাখা। এই কারণে সর্বমহলের লোকজন কাজটি জরুরিভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষ মনে করেন, ফসলডুবি থেকে সুনামগঞ্জের বোরো ফসলকে সুরক্ষা দিতে হলে বা ফসলরক্ষা নিশ্চিত করতে নদী খননের কোনও বিকল্প নেই। সুনামগঞ্জকে বাঁচাতে হলে সুনামগঞ্জের নদীখনন প্রকল্পকে অবশ্যই যতটা তড়াতাড়ি সম্ভব বাস্তবায়ন করে তোলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী