,

Notice :

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এবং আমাদের স্বপ্ন


উত্তম বণিক ::

পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ ধীরে ধীরে তাঁর চিন্তাধারাকে পারিপার্শ্বিক সকল কিছুর সাথেই স¤পর্ক স্থাপনে আবির্ভূত হয়েছে। সেই স¤পর্ক, পাথর থেকে আগুন জ্বালানো শুরু করে আজ তা পৃথিবীর পরিধি অতিক্রম করে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে বিস্তার লাভ করেছে। মানুষ আজ মহাবিশ্বের সকল অজানা কর্মকা-কে নিজের মত করে জানার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। মহাবিশ্বের সকল তত্ত্ব স¤পর্কে জানা বা গবেষণার করার যে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রয়োজন তা শুধু মাত্র কয়েকটি দেশই অর্জন করতে পেরেছে। তাদের প্রযুক্তি সহায়তায় অন্যান্য দেশগুলো উৎসাহিত হচ্ছে মহাকাশে বিচরণে।
মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করার মূল মাধ্যম হচ্ছে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট। মহাকাশ প্রযুক্তির সুবিধা নিতে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের উপর নির্ভরশীল। আর এই নির্ভরশীলতার কারণে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা খরচ করতে হয় যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব রাখে। এক সময় কল্পনা ছিল যদি আমাদের নিজেদের স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ থাকতো তাহলে আমাদের অন্য দেশের উপর নির্ভর করতে হত না। যুগের চাহিদা অনুযায়ী আজ আমাদের এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০১৫ সালে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে স্যাটেলাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস এর সাথে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল রূপদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ অল্প কিছুদিনের মধ্যে মহাকাশে উৎক্ষেপণ হতে যাচ্ছে। আর এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে অন্য এক উচ্চতায় উপনীত হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ যেমন জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রসারিত হবে ঠিক তেমনি আমাদের নতুন প্রজন্ম মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে উৎসাহিত হবে। ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট শুধু আমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং এই স্যাটেলাইট দিয়ে আমরা উপমহাদেশের সকল দেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রকাশ করতে পারব। মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণার প্রথম ধাপ হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্পেস এক্স-এর লন্ড প্যাড থেকে ফ্যালকন-৯ রকেট দিয়ে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের ৮ দিনের পরিভ্রমণ শেষে নির্দিষ্ট কক্ষপথের নির্ধারিত স্লট ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে পৌঁছে যাবে যা ১৫ বছর ধরে সক্রিয় থাকবে। সেই সঙ্গে আমরা বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হয়ে উন্নত বিশ্বের সাথে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় আমাদের আগমনী সংকেত দিতে সক্ষম হব। বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পরিপূর্ণভাবে রেডিও সংকেত পেতে প্রায় ১-২ মাস সময় লাগতে পারে। স্যাটেলাইট থেকে রেডিও সংকেত পাওয়ার পরে আমরা বাণিজ্যিকভাবে ফ্রিকোয়েন্সি এবং অন্যান্য সেবা প্রধান করতে সক্ষম হব। নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রায় ৩৭টি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলকে ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রি করে প্রতি বছর প্রচুর অর্থ আয় করতে পারব। তাছাড়া দুর্যোগপ্রবণ সময়ে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ, টেলিচিকিৎসা, ই-শিক্ষা, গবেষণা, ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) ও প্রতিরক্ষা সেবা ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সহজেই পাওয়া যাবে। সেই সাথে আমাদের ভূ-খ-, জলসীমা ও আকাশপথের সামগ্রিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। ‘বঙ্গবন্ধু-১’ কৃত্রিম উপগ্রহ বাংলাদেশের ডিজিটাল স্বপ্নকে সুদূর প্রসারিত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে মহাকাশ স¤পর্কে আগ্রহ এবং মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করার জন্য উৎসাহিত করবে। জ্ঞানের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণা এবং নিত্য নতুন প্রযুক্তি আবির্ভাবের ধারাকে সফলভাবে উপযোগী করে তুলবে। ‘বঙ্গবন্ধু-১’ কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন বাংলাদেশের মানুষের জ্ঞান বিজ্ঞানকে পরিপূর্ণ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমাদের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ আমাদের বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট এর সফল উৎক্ষেপণের জন্য শুভ কামনা রইল। জ্ঞান-বিজ্ঞানে বাংলাদেশ আরও পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক এই কামনা আমাদের সকলের।
[উত্তম বণিক,satcom.uttam@gmail.com]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী