,

Notice :

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃণমূলে প্রচারণায় অ্যাড. শামছুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধি ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃণমূলে পৌঁছে দিতে দুর্গম দিরাই-শাল্লা উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ ঘুরে বেড়াচ্ছেন দিরাইয়ের শহীদ পরিবারের সন্তান অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শামছুল ইসলাম উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রাকারী মহাজোট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার উন্নয়নযজ্ঞ তুলে ধরছেন তৃণমূলে। একই সঙ্গে তিনি উন্নয়নের মূল¯্রােত থেকে ছিটকেপড়া এই দুই উপজেলার ধর্মীয়, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে তাদের সমস্যা খুঁজে বের করে সরকারের সংশ্লিষ্টদের অবগত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। দিরাই-শাল্লার সকল ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য শিক্ষা-ধর্মীয়-সামাজিক প্রতিষ্ঠান তিনি ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিদর্শন করার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তালেব উদ্দিন আহমেদ-এর ছোট ভাই। দিরাই উপজেলার হাতিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রেরণাদায়ী তালেব আহমদ ‘জয় বাংলা তালেব’ হিসেবে খ্যাত। পারিবারিক আবহ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাইয়ের আদর্শ ধারণ করে অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম কৈশোরেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। সিলেট ল’ কলেজের ছাত্রলীগের ভিপি ছিলেন তিনি। বর্তমানে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা। উপমহাদেশের প্রজ্ঞাবান ও বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রিয়ভাজন অ্যাডভোকেট শামছুল সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রতিটি জনসভায় উপস্থিত থেকে দিরাই-শাল্লার সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রখর বাগ্মীতায়। সুরঞ্জিত সেন প্রয়াণের পর তাঁর আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন চাইলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সুরঞ্জিত পরিবারের প্রার্থীর পক্ষে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে তিনি প্রশংসিত হন।
জানা গেছে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রয়াণের পর শহীদ পরিবারের সন্তান অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলামকে প্রার্থী হওয়ার প্রেরণা দেন এলাকাবাসী। উপনির্বাচনেই তিনি আলোচনায় আসেন। শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি আগাম প্রচারণায় নেমেছেন। প্রচারণার পর থেকেই তার কর্মসূচিতে ভিন্নতা লক্ষনীয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন তখন তিনি এর পাশাপাশি তৃণমূলে শেখ হাসিনার উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে দেখা যায়। সাধারণ ভোটারের সামনে তুলে ধরছেন সম্ভাবনার বাংলাদেশের এক ছবি। পাশাপাশি সংকট ও সমস্যায় হাবুডুবু খাওয়া দিরাই-শাল্লার প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করে তার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তার এই ব্যতিক্রমী প্রচারণায় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা খুশি হয়ে তাদের সমস্যা অবগত করছে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন।
জানা গেছে, গত ৫ জুলাই প্রচারণায় নামেন অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম। শাল্লা উপজেলা সদরের ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও দামপুর দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। ২৯ জুলাই দিরাই উপজেলার চরচনারচর ইউনিয়নের শামারচর এলাকায় অবস্থিত হাফিজিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি পার্শ্ববর্তী কয়েকশ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী শ্যামারচর আখড়া, মন্দির পরিদর্শন করেন। পরে চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদে মতবিনিময় করেন। ৮ আগস্ট ফের ওই এলাকায় আবারও প্রচারণা চালান তিনি।
গত ১০ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম। ওইদিন তিনি উপজেলার আটগাও, শাল্লা ও বাহারা ইউনিয়নে প্রচারণায় নামেন। বাহারা গ্রামের কয়েকশ বছরের পুরনো স্থাপত্যশৈলীর রামকৃষ্ণ গোসাই আখড়া, মুক্তারপুর ও মেঘনাপাড়া দুর্গা মন্দির, সুখলাইন গোপাল আশ্রম, মামুদনগর কালিমন্দির আখড়া, মামুদনগর মসজিদ, বাগেরহাট জামে মসজিদ পরিদর্শন করেন। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন। পরে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। ১১ আগস্ট উপজেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর রামকৃষ্ণ আখড়া, দৃষ্টিনন্দন সোমেশ্বরী মন্দির, কালিমন্দির ও পরবর্তীতে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও জামে মসজিদ পরিদর্শন করেন। ১২ আগস্ট যাত্রাপুর মাদার ফকিরের আশ্রম, রাহুতলা কালিমন্দির, দুর্গা মন্দির, রাহুতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাহুতলা মাদ্রাসা, সোনাখনি মসজিদ, রাহুতলা লোকনাথ মন্দির, নিজগাঁও বাজার রাধাগোবিন্দ মন্দির, নিজগাঁও বাজার মসজিদ, সুরমা দারুল কোরআন এমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও দাউদপুর দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি রাহুতলা বাজার ও নিজগাঁও বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
জানা গেছে, শিক্ষা, ধর্মীয়, সামাজিক ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ছাড়াও তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়কালে অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মহাজোট সরকারের গত ৮ বছরের উন্নয়নের জাতীয় ও স্থানীয় চিত্র তুলে ধরে আগামীতে নৌকা প্রতীকে পুনরায় শেখ হাসিনার প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার অনুরোধ জানান।
অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতি ও উন্নয়ন দর্শনে আকৃষ্ট হয়ে আমার বড় ভাই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিতে দিতে শহীদ হয়েছিলেন। আমি তার সেই আদর্শ বুকে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে মাঠে-ময়দানে কাজ করছি। তার উন্নয়ন যজ্ঞ তৃণমূলে তুলে ধরার পাশাপাশি এলাকার সমস্যা সংকটে হাবুডুবু খাওয়া ধর্মীয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের খোজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সহায়তার অনুরোধ জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী