মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

Notice :

সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলাকারীদের বিচার করতে হবে

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং তাদের ধর্মীয় স্থাপনা ও শ্মশানের জায়গা দখলসহ বিভিন্ন ঘটনায় সমাজের এক শ্রেণির দুর্বৃত্তদের তৎপর হতে দেখা যায়। আমরা এই সকল ঘটনাগুলোকে শুধু সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করবো না। ঘটনাগুলো সমাজের এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত ও কুচক্রি মহলের কুকর্ম হিসেবেই চিহ্নিত করবো। সমাজের বসবাসকারী সকলেই মানুষ এবং এদেশের নাগরিক। যাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে তাঁরা সমাজের একটি অংশ। আর যারা দৃবৃত্তায়ণ করছে তারাও সমাজের একটি অংশ। এখানে দুটি পক্ষের লোকজনের মধ্যে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। সমাজে যারাই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেনো প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সামাজিক প্রতিরোধ। যাঁরা সুজন তাঁদের উচিত হবে ওই সকল দুর্বৃত্তদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া। এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। যারা অপরাধ সংঘটিত করে তারা কোনো জাতি, গোষ্ঠী বা কোনো দলের হতে পারে না। তাদের পরিচয় একটাই, তারা সমাজ ও আইনের চোখে অপরাধী। আর অপরাধী যেই হোক তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা সকলের কাম্য।
সত্যিকার অর্থে বাস্তব প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে আইন করা হয়েছে। তেমনইভাবে সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য একটি আইন করার জোরালো দাবি উঠেছে। সঙ্গত কারণেই এই দাবিটিও বাস্তব প্রয়োজনীয়তা থেকে উঠে এসেছে। কারণ আইনের সুশাসন ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরা যাবে না। এবং শুধু আইনের উপর ভরসা করে বসে না থেকে, সামাজিকভাবেও এদের প্রতিরোধ করতে হবে।
সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালি এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দুর্গা মন্দির একটি প্রভাবশালী মহল দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এটিকে রক্ষা করার জন্য একজন জনপ্রতিনিধি পূজা উদ্যাপন পরিষদের এক সভায় দাবি উত্থাপন করেন। এদিকে শহরের শ্মশানঘাট একটি চক্র দখলের পাঁয়তারা চালিয়েছিল। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শ্মশানঘাটটিও রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু অপরাধীরা থেমে নেই। তারা একের পর এক অপরাধ সংঘটিত করে যাচ্ছে। “থানায় অভিযোগ দেয়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা : দু’দফা হামলায় আহত ৭” শিরোনামে গত রোববার দৈনিক সুনামকণ্ঠে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদ থেকে জানা যায়, থানায় অভিযোগ দেয়ায় প্রতিপক্ষরা ক্ষুদ্ধ হয়ে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের গৌরারং গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে। দু’দফা হামলায় ৬নারীসহ ৭জন আহত হয়েছেন। প্রথম দফা হামলার ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাত ৮টার দিকে। এতে গুরুতর আহত দু’জন নারীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর ৪জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গৌরারং গ্রামের প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিলো একই গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের। এ বিষয়ে গত রোববার সকালে সংখ্যালঘু পরিবারের প্রণয় দাস বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার বিকেলে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা রাত ৮টার দিকে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে লাঠি-সোঁটা নিয়ে প্রথম দফা হামলা চালায়। এই হামলায় ৬ নারী আহত হন। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে একই ব্যক্তিরা আবারো ওই সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় বিনয় চন্দ্র দাস (৩০) আহত হন।
সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর এমন হামলা নিন্দনীয় ও ন্যাক্কারজনক। আমরা এই হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী