শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন

Notice :

সদর উপজেলা তিন ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা

শামসুল কাদির মিছবাহ ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা উপলক্ষে মতবিনিময় ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেরীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, স্কুলশিক্ষার্থী, এলাকাবাসীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় ও অবহিতকরণ সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বছরে ১ লক্ষ গর্ভবতী মায়ের মধ্যে ১৭০ জন মারা যায়। এর মধ্যে বাল্যবিবাহের কারণে গর্ভবতী মা বেশি মারা যায়। অথচ উন্নত বিশ্বে লাখে ১-২ জন মারা যায়। সন্তান প্রসবকালে ও প্রসব পরবর্তী বাচ্চারাও মারা যায়। ২২-২৩ বছরের আগে কোনো মা’ই বাচ্চা নেওয়ার সক্ষমতা রাখে না। ২২-২৩ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর শরীরের বৃদ্ধি ঘটে। আর একটি কন্যাশিশু গর্ভবতী হয়ে আরেকটি শিশু পেটে ধারণ করে। এতে বাচ্চার ওজন কম হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। ফলে এসকল বাচ্চা বেশিদিন বাঁচে না। বাঁচলেও তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, নারীনেত্রী শীলা রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া, শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে, নুরুর রব চৌধুরী, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গৌতম কুমার রায়, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এএফএম রফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর নগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির, সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুছ ছত্তার ডিলার, শিক্ষক সুধীর গোমেজ, মাওলানা বিল্লাল হোসেন, তাহমিনা আক্তার জলি, কাজী সাহেদ আলী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সালিমা আক্তার প্রমুখ।
বক্তারা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। বাল্যবিবাহ রোধে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের প্রত্যেককে নিজ নিজ স্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রত্যেকটা স্কুলের শিক্ষকে দায়িত্ব নিতে হবে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, অভিভাবকসহ সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষকে এক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধি সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে। শিশুদের পিছনে ফেলে সমাজকে কোনোভাবেই এগিয়ে নেয়া যাবে না। সমাজের প্রতিটি শিশুকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবীর সভাপতিত্বে ও সহকারি শিক্ষক মুহসিনা আক্তার রুনার সঞ্চলনায় মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক রঞ্জন পুরকায়স্থ। অনুষ্ঠানের শেষে নৃত্য ও নাটক মঞ্চস্থ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী