শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৩১ অপরাহ্ন

Notice :

শুভবুদ্ধির উদয় হোক

বেশ কিছু দিন আগে একজন সাংসদ একটি ৮/৯ বছরের বালককে স্বীয় পিস্তল থেকে গুলি করে মারাত্মক আহত করেছিলেন। বিশ্ব বিরল এমন ঘটনায় অবাক হয়ে গিয়েছিল সারাদেশ। সংশ্লিষ্ট সংসদকে নিয়ে সংঘটিত সংসদীয় বিতর্কে পক্ষে-বিপক্ষে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দেয়। বিবেক-বিবেচনার, ন্যায়বোধের কিংবা ভালমন্দ তফাৎ করার শুভবুদ্ধির কতটা আকাল পড়লে একটি মাসুম বাচ্চাকে গুলি করার প্রশ্নে জাতীয় সংসদ পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়ে, সেটা বোধ করি ভাষায় প্রকাশ করার অপেক্ষা রাখে না, এমনিতেই বোধগম্য হয়ে যায়। তখন মনে পড়ে এইরূপ আর একটি সংসদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দায়মুক্তির বিল গৃহীত হয়েছিল আজ থেকে চার দশক আগে।
গতকাল দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠার একটি সংবাদের শিরোনাম ছিলÑ “ঢাকায় দুই সাংসদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলি।” সংবাদ বিবরণীটি পাঠ না করেই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, দেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এখন ঘরে-বাহিরে যে কোনও প্রাণীর স্বাভাবিক নিরাপত্তা যেটুকু আছে ততটুকুও মানুষের জন্য নেই।
মানুষের কিংবা মানবসমাজের ক্রমবিকাশ কিংবা ইতিহাস অধ্যয়ন করলে একটি বিষয় যে কেউ লক্ষ্য করতে পারবেন, আর সেটি হলো ক্রমে ক্রমে মানুষ পাশবিকতা থেকে মানবতার দিকে জিঘাংসা থেকে মিত্রতার দিকে, হিংসা থেকে প্রেমের দিকে অগ্রসর হয়েছে। পাপুয়া নিউগিনির একটি দ্বীপের মানুষদের মধ্যে সামাজিক প্রথাদ্রোহী সদস্যকে হত্যা করে সর্দার কর্তৃক মাংস ভক্ষণের রীতি প্রচলিত ছিল, তখন এই হিং¯্রপ্রথা আর নেই। ভারতে নেই সতীদাহ প্রথা। সমাজ সভ্যতার আরও বেশি মানবিক হয়ে ওঠার যাত্রাপথে পৃথিবী অনেকটা অগ্রসর হয়ে গেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় সংঘটিত সামাজিক-রাজনীতিক বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মনেই হতে পারে বাংলাদেশ মানবিক বিকাশের পথে অধোগামিতার প্রবণতায় আক্রান্ত। হয় তো সে কারণেই এই একই পত্রিকার এই একই পৃষ্ঠায় সংবাদ শিরোনাম পড়তে হয়Ñ “ইসির ব্যর্থতায় সহিংসতা বাড়ছে” কিংবা তৃতীয় পৃষ্ঠায় “নিখোঁজের তিন পর সেতুর নিচে শিশুর লাশ উদ্ধার।” শিশুটির বয়স মাত্র নয়। তার একটি হাত কাটা। এমন কি পত্রিকায় পড়তে হয়েছে শিশু দেহের বিভিন্ন কাটা অংশ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলা ঘটনার খবর।
সত্যিকার অর্থেই জাতি একটি খারাপ সময় অতিক্রম করছে। এই হন্তারক সময়ের আবর্তন থেকে মুক্তি চায় দেশ, দেশের মানুষ। যাঁরা দেশ-রাষ্ট্র-সমাজের পরিচালক, তাঁদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এই প্রত্যাশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী