সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

Notice :

বেপরোয়া গতির মোটর সাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহর

মো. আমিনুল ইসলাম ::
সড়কে সড়কে নাগরিকরা প্রতিদিন ছুটে চলেছেন ব্যস্ততায়। কেউ রিকশা, কেউ অন্য কোন যানবাহনে চেপে আর কেউবা পায়ে হেঁটেই। সকালে বিদ্যালয় অভিমুখে ছুটছেন শিক্ষার্থীরা। আবার দুপুর না হয় বিকেলে ফিরছে নিজ নিজ বাসগৃহের উদ্দেশ্যে। সুনামগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে নাগরিকরা যখন কাজের তাগিদে বের হচ্ছেন তখন কিছু যুবক সড়কে হাওয়ার বেগে ছুটছে উদ্দেশ্যহীন। তারা স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক গতি নিয়ে চলার পাশাপাশি উচ্চমাত্রায় শব্দ সৃষ্টি করছেন মোটরসাইকেলে। মোটরসাইকেলের নির্ধারিত নকশাকে নিজেদের খুশিমতো পাল্টে দিচ্ছেন। সঙ্গে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের সাথে সংযুক্ত থাকা ধোঁয়ার নল (সাইলেন্সার) বদলে বিকট শব্দের উৎপত্তি ঘটাচ্ছেন। যা সড়কে চলাচলকারী নাগরিকদের কাছে বিরক্তিকর ও শব্দদূষণের অন্যতম কারণ। সাধারণত শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কে অতিমাত্রায় গতি নিয়ে যান চলাচল করা ট্রাফিক পুলিশের মতে বেআইনি। সড়কের ধরন ও এলাকার উপর ভিত্তি করে এক এক সড়কে এক এক মাত্রার গতি নির্ধারণ করে দেয় সড়ক বিভাগ। তবে পৌর এলাকার অধিকাংশ সড়ক পৌরসভার আওতায় থাকায় সড়ক বিভাগের গতিনির্ধারণী সাইনবোর্ড শহরের ভেতরে চোখে পড়ে না। সুনামগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ি শহরের ভেতরের সড়ক অথবা বাজার সংলগ্ন সড়কে যানবাহনের গতি ১০ কি.মি.-এর উপরে উঠলেই তা অতিরিক্ত বলা চলে। সে অনুযায়ী শহরের সড়কগুলোতে যেসব যুবক বেপরোয়া গতি নিয়ে মোটরসাইকেল চালায় তারা নিয়ম ভঙ্গ করছে। বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের ধরতে ট্রাফিক ও পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে শহরের পুরাতন বাসস্টেশন, জামাইপাড়া, কালীবাড়ি, মহিলা কলেজ রোড, হোসেন বখত চত্বর, বিহারি পয়েন্ট, উকিলপাড়া, কাজীর পয়েন্ট, হাসপাতাল ও কলেজরোডে এসব উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী মোটরসাইকেল চলাচল করছে বেশি। জামাইপাড়া হয়ে কালিবাড়ি, মহিলা কলেজ রোড, এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক, রিভারভিউ হয়ে হোসেন বখত চত্বরের সাথে সংযুক্ত সড়ক, বিহারি পয়েন্ট থেকে হোসেন বখত চত্বর পর্যন্ত সড়ক, কাজীর পয়েন্ট থেকে ময়নার পয়েন্ট এলাকার সড়ক ও বিহারি পয়েন্ট থেকে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ পর্যন্ত সড়কে বেপরোয়া গতি নিয়ে ছুটে চলেছে এসব মোটরসাইকেল। সঙ্গে ধোয়ার নল (সাইলেন্সার) দিয়ে সৃষ্টি করা হচ্ছে বিকট শব্দ। উঠতি বয়সিরা এসব মোটরসাইকেল নিয়ে দিনের অধিকাংশ সময় সড়কে না থাকলেও বিশেষ করে শহরের বিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টারগুলোর পাঠ কার্যক্রমের প্রারম্ভিক মুহূর্তে ও ছুটির সময় সড়কে হাওয়ার বেগে ছুটে চলে। এতে শিক্ষার্থীরা অনেকটা ভয় নিয়েই চলাচল করছেন নিয়মিত।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রী সাদিয়া নাসরিন বলেন, ‘কিছু ছেলেদেরকে আমি নিয়মিতই দেখি যারা সড়কে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালায়। এরা বিকট শব্দে ছুটে চলে। গতি এতটাই বেশি যা আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এদের জন্য সড়কে চলাচল করাটাও বিপজ্জনক হয়। কোন কারণ ছাড়াই এরা একবার এদিকে ছুটে আবার মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে অন্যদিকে ছুটে। আর মেয়ে দেখলে তো আর কথাই নেই…।’
আরেক ছাত্রী আইরিন আক্তার বলেন, ‘সড়কে কিছু মোটর সাইকেল এতো জোরে চলে যে মনে হয় তাদেরকে কেউ পেছন থেকে ধাওয়া করছে। এসব মোটরসাইকেলের পেছনে নেই কোন রেজিস্ট্রেশন নম্বর। ডিজাইনের দিক দিয়ে মোটর সাইকেলগুলো আধুনিক হলেও সেগুলো বিকট শব্দ সৃষ্টি করে। বখাটেরাই এসচেয়ে বেশি এধরনের মোটর সাইকেল ব্যবহার করে থাকে। তারা স্কুলের সামনে দিয়ে তুফানের মতো সাই..সাই.. করে ছুটে। অনেক সময় একসাথে কয়েকটা মোটরসাইকেল অতিরিক্ত গতি নিয়ে কোন কারণ ছাড়াই হর্ন বাজাতে বাজাতে এদিক থেকে ওদিক করে ছুটে। স্কুলে ক্লাস চলাকালীন সময়ে আমাদের খুব সমস্যা হয়। এসব মোটরসাইকেল সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরায় সমস্যার সৃষ্টি করছে।
এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদ বলেন, ‘শহরের যে সব সড়ক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ছাত্রীরা চলাচল করে সেই সড়কগুলো দিয়ে কিছু মোটরসাইকেল অতিরিক্ত গতি নিয়ে চলছে। আমরা নিয়মিতই এসব মোটরসাইকেলকে অনেকটা রকেটের মতো ছুটতে দেখি। আর এসব মোটরসাইকেল অস্বাভাবিক শব্দ করে। নাম্বার প্লেট ছাড়াই এরা সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের স্কুলটা সড়কের পাশে তাই যখন এরা সড়ক দিয়ে যায় তখন মনে হয় হেলিকপ্টার যাচ্ছে, আমাদের খুব সমস্যা হয়।’
এক রিকশা চালক আলাউদ্দিন বলেন, আমরা তো ভাই গাড়ি লইয়া রাস্তাত বাইর হই পেটের লাগি। কিছু ছেলেরা বাইর অয় তামশা করার লাগি। তারা কাইত হইয়া চিত হইয়া হোন্ডা চালাইন। আর এক রাস্তাত তিন চাইরবার ঘুরান মারইন। তারার চালানি দেখলে মনেহয় হোন্ডা না তারা বিমান চালায়রা। আর হোন্ডারে টেক্টারের লাখান শব্দ বানাইলাইন। তারা মনে করইন তারারে মনেহয় ভালাই লাগে। মাইনষে যে তারারে লইয়া হাসে ইতা কইতা ফারইন নি? তারার চালানি দেখলে ডরই করে’।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট সালাউদ্দিন কাজল বলেন, ‘রাস্তা ফাকা থাকলেই দ্রুত গতিতে চলাচল করার কোন বৈধতা নেই। এক এক সড়কে এক এক মাত্রায় গতি নিয়ে চলতে হয়। শহরের ভেতরে ব্যস্ত সড়কে কোনভাবেই অতিরিক্ত গতি নিয়ে যানবাহন চলাচল করা যাবে না। সবকিছুরই নিয়ম কানুন রয়েছে। বাজারের আশপাশের সড়কে ১০ কি.মি.-এর উপরে গতি নিয়ে চললেই তো অতিরিক্ত। তাই শহরের ভেতরে নিয়মানুযায়ী মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনকে কম গতি নিয়ে চলাচল করা উচিত। আমরা রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ব্যাপারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আমাদের চেকপোস্টও পরিচালিত হচ্ছে। আমি মনে করি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পাশাপাশি আমাদের সকলের সচেতনতাও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। আইন অনুসারে বেপরোয়া গতির ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে মামলা, অর্থদন্ড ও কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী