শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২:৩০ অপরাহ্ন

Notice :

১৪৬ বছর পর কোর্ট ফি আইন সংশোধন

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
অনলাইনের মাধ্যমে জমির খাজনা আদায়, নামজারি, জমির পর্চা ইত্যাদি সেবাসহ সব প্রকার মামলার কোর্ট ফি জমা দেয়ার বিধান রেখে কোর্ট ফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট ২০১৬ বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ।
জনগণ যাতে সহজে, কম খরচে, দ্রুত ও কোনো হয়রানি ছাড়া কোর্ট ফি জমা দিতে পারেন সেজন্য ১৪৬ বছর পর আইনটি সংশোধিত হলো।
অপরদিকে দেওয়ানি আদালতকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক মূল্যের মামলা বিচারের এখতিয়ার দিয়ে সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৬ নামে অপর আরেকটি বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ।
বৃহ¯পতিবার রাতে দশম সংসদেও দশম অধিবেশনে ডেপুটি ¯িপকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে ডেপুটি ¯িপকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে ১৮৭০ সালের আইনের এ সংশোধিত ও ১৮৮৭ সালের আইনের এ সংশোধিত বিল দুটি পাস করা হয়।
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে বিল পাস করার প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এরআগে কোর্ট ফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট ২০১৬ বিলের ওপর আনা সংশোধনী, জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। সংসদের নবম অধিবেশনে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিলটি উপস্থাপিত হয়।
বিলের ২ ধারায় ১৮৭০ সালের ২৫ অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে বলা হয়েছে, কোর্ট ফি আদায়ের জন্য সরকার তফসিলী ব্যাংক, মোবাইল অপরেটর, মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস প্রোভাইডার অথবা সরকার নিয়োজিত এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবে। এ আইনের অধীনে সরাসরি রশিদের মাধ্যমে, স্ট্যা¤প গ্রহণের মাধ্যমে অথবা ই-পেমেন্টের রশিদ গ্রহণের মাধ্যমে ফিস পরিশোধ করা যাবে।
স্ট্যা¤েপর সংকট দেখা দিলে অনলাইনে জটিলতার কারণে নগদে টাকা জমা দেয়া যাবে। এছাড়া আগের আইনের ৩৪ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সরকার অনুমোদিত কোনো এজেন্ট ছাড়া অপর কেউ স্ট্যা¤প বিক্রি করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান বিলে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আইনের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফেরৎযোগ ফিস ই-পেমেন্টের মাধ্যমে প্রত্যার্পণ করা হবে।
অপরদিকে সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০১৬ আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে এ বিলটিও পাস করার প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
১২৯ বছর পর সংশোধিত হলো দেওয়ানি মামলার বিধান। ব্রিটিশ আমলে প্রবর্তিত সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট ১৮৮৭ সংশোধনের মাধ্যমে নতুন আইনে দেওয়ানি আদালতে মামলা নেয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে।এতে অসহায় গরীব জনগণের ভোগান্তি লাঘব এবং দ্রুত বিচার পাওয়ার পথ সুগম হবে বলে মনে করছে ভূমি মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
পাসকৃত আইনের ২ ধারা বলে ১৮৮৭ সালের ১৯ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের মামলা নেওয়ার এখতিয়ার ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সহকারী জজ আদালতের মামলা নেওয়ার এখতিয়ার ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ২১ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে জেলা জজ আদালতের মামলা নেওয়ার এখতিয়ার ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার পরর্বতী তিন মাসের মধ্যে জেলা জজ বিশেষ আদেশ দ্বারা সংশোধিত এখতিয়ার অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে স্থান্তরের নির্দেশ জারি করবেন। আইনের বিশেষ বিধান বলে মোকাদ্দমাটি যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে সংশ্লিষ্ট আদালত সে পর্যায় থেকে মামলাটি পরিচালনা করবেন। এ বিধান বলে হাইকোর্টে বিচারাধীন অনধিক ৫ কোটি টাকা মূল্যমানের মোকদ্দমা জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হবে এবং জেলা জজ নিজে বা অতিরিক্ত জেলাজজ-এর কাছে মোকাদ্দমাটি নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী