মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:৩১ অপরাহ্ন

Notice :

হুমকির মুখে সাংহাইর হাওর

হোসাইন আহমদ/মোশাহিদ আহমদ ::
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর, খাইর হাওর ও জামখলার হাওর একের পর এক তলিয়ে যাওয়ার পর এবার হুমকির মুখে পড়েছে সাংহাইর হাওরের প্রায় ৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমির বোরো ফসল।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি যখন হাওরে প্রবেশ করে তখন এ দৃশ্য দেখে কৃষকের বুক ফাটা আর্তনাদ আর চোখের পানি আকাশ বাতাস ভারি করে তোলে। এ উপজেলার বৃহৎ হাওর দেখার হাওর, কাচি ভাঙ্গার হাওর, সাংহাইর হাওর, খাই হাওর, জামখোলা হাওর, ধামাই হাওরসহ অন্যান্য হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের জন্য প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও পাউবো নির্দিষ্ট সময়ে বাঁধের শতভাগ কাজ করতে পারে না। তাছাড়া বাঁধ নির্মাণেও রয়েছে নানা অনিয়ম।
জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সাংহাইর হাওরে ডুংরিয়া শিবপুর গ্রামের পূর্বে ব্রিজ এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বাঁধের নির্মাণের অন্তুর্ভুক্ত না করায় কোন বাঁধ তৈরি করা হয়নি। যার ফলে সাংহাইর হাওরের প্রায় ৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে উক্ত স্থানে বাঁধ দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবাদত হোসেন সার্বক্ষণিক তদারকি ও বাঁধ তৈরির জন্য বস্তা প্রদান করেছেন। এছাড়া জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া নিজ উদ্যোগে শ্রমিক দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য (পিআইসি) ও ঠিকাদাররা হাওর এলাকা ও বাঁধ রক্ষার কাজে দেখা যাচ্ছেনা।
গতকাল মঙ্গলবার দিনভর হাওর এলাকার বিভিন্ন বাঁধ ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় জনগণ ধান কাটায় ব্যস্ত রয়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ করেনি পাউবো। সময়মত বাঁধের কাজ করলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হত না বলে তাঁরা জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাগাতার বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদরপুর ব্রীজ সংলগ্ন বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে সদরপুর ব্রিজের বাঁধ ভেঙে নাগডোরা হাওর এলাকা পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবাদত হোসেন বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং সাংহাইর হাওরে যাতে পানি না ঢুকতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ তৈরির জন্য বস্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন পয়েন্ট চিহ্নিত করে বাঁশ, বস্তা, বালি দিয়ে বাঁধ তৈরি করার জন্য তাগিদ দেন। সঙ্গে সঙ্গে জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া শিবপুর গ্রামের পূর্বের ব্রিজের খালে একটি বাঁধ তৈরি ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের জয়সিদ্ধি এলাকার শান্তিপুর গ্রাম সংলগ্ন ভঙ্গিরডর বাঁধে বাঁশ ও বস্তায় মাটি দিয়ে প্রায় শতাধিক শ্রমিককে মুজুরিভিত্তিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাঁধ রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাঠ কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য (পিআইসি) ও ঠিকাদাররা নিজেদের আড়াল করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন কৃষকরা।
জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া জানান, সাংহাইর হাওরের ফসল রক্ষার্থে শিবপুর গ্রামের পূর্বের ব্রীজ সংলগ্ন খালে পাউবো বাঁধ নির্মাণ না করায় সাংহাইর হাওরর ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমরা ফসল রক্ষার্থে শিবপুর গ্রামের পূর্বের খালে বাঁশ, বস্তা, বালি ইত্যাদি দিয়ে বাঁধ তৈরি করছি এবং ভঙ্গিরডর বাঁধে মাটি ফেলে হাওর রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উপজেলা প্রশাসন ১ হাজার বস্তা প্রদান করেছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবাদত হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নদী কানায় কানায় ভরে ওঠায় প্রতিটি হাওরের ফসল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে হাওরটুকু অবশিষ্ট রয়েছে ওইগুলি রক্ষার জন্য নতুন বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাঠ কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য (পিআইসি)দের সাথে যোগাযোগ করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে হাওরগুলোতে পানি ঢোকার পূর্বেই দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী