শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

Notice :

বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে হাওরে

স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের শাল্লা, জগন্নাথপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত নি¤œমানের বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। গতকাল শনিবার শাল্লা ও জগন্নাথপুরে দুটি হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকায় কৃষকরা মাইকিং করে এলাকাবাসীকে বাঁধে উড়া কোদাল বস্তা নিয়ে অবস্থানের আহ্বান জানালে শত শত কৃষক স্বেচ্ছায় বাঁধের কাজ করেছেন। এদিকে জেলার অন্যান্য হাওরেও বাঁধের অবস্থা ভালো না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। যে কোন সময় বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করবে বলে তাঁরা জানান।
জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জের মইয়ার হাওরের নারিকেলতলা বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেঙ্গে শনিবার পানি ঢুকতে শুরু করে। এসময় স্থানীয় জনতা মাইকিং করে কৃষকদের বাঁধে অবস্থান করার আহ্বান জানালে কৃষকরা বাঁধ রক্ষার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে উপস্থিত হন। তাঁরা বাঁধরক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। পরে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত হন। বাঁধের সংস্কারকাজ শুরু করতে করতেই প্রবল বেগে পানি ঢুকে হাওরের বোরোক্ষেত তলিয়ে নেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, এ হাওরের ফসল এর আগে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি ঢুকে আরও ক্ষতি করেছে। এবার কৃষকের অবস্থা খুবই শোচনীয় হবে বলে তিনি জানান।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শনিবার পানি ঢুকে এ হাওরের প্রায় ১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির জানান, ভেঙে যাওয়া বাঁধের অংশ পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। এখন আর কোন সমস্যা নেই। স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে প্রশাসন দ্রুত গতিতে বাঁধটি সংস্কার করেছে বলে তিনি জানান।
এদিকে শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের দাড়াইন বাজারের পূর্বদিকের কাইটা বিলের বাঁধ এবং কুমিরিয়া বিলের বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকছে হাওরে।
হাওর বাঁধের পিআইসি কমিটির সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, বারবার বলার পরও পাউবো বরাদ্দ না দেওয়ায় প্রথম ধাক্কাতেই হাওরে পানি ঢুকে গেছে।
শনিবার রাত ৯টায় এ বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করে। এতে কাশিপুর ও ভোলানগর এলাকার বিস্তীর্ণ বোরো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানা যায়।
এদিকে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কৃষকদের বাঁধে আসার আহ্বান জানালে এলাকার কৃষকরা বাঁধে ছুটে এসে বাধরক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তাদের অনেকই উড়া কোদাল বস্তা বাঁশ নিয়ে বাঁধ সংস্কারে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন বলে জানাগেছে।
এদিকে সদর উপজেলার দেখার হাওরের টলাখালি বাঁধে ফাটল দেখা দিলে এলাকার কৃষকরা তাৎক্ষণিক জড়ো হন। তাঁরা বাঁধে অবস্থান করে স্বেচ্ছায় ফাটলে মাটি দিয়ে বাঁধরক্ষার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। উদ্বিগ্ন কৃষকের অনেককেই বাঁধে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
কৃষকরা জানান, ধান পাকার আগেই বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তাই অনেকেই আধাপাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে এটাও সম্ভব হচ্ছেনা বলে তাঁরা জানান। কৃষকরা জানান, ধান পাকতে আরো ১০দিন সময় লাগবে। কিন্তু এর আগেই বাঁধ ভেঙ্গে এবং পানিতে কষ্টে ফলানো সোনার ধান তলিয়ে যাচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ বলেন, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর, মইয়ারহাওরসহ অন্যান্য হাওরও এখন ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এতে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জাহেদুল হক বলেন, জগন্নাথপুর ও শাল্লায় বাঁধ ভেঙে হাওরের কিছু জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি না সরলে ফলন ক্ষতির মুখে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী