,

Notice :
«» জেলা প্রশাসকের সাথে রিপোর্টার্স ইউনিটি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ «» সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে হবে : জেলা প্রশাসক «» জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ «» কালনী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার «» স্বেচ্ছাসেবক লীগের আনন্দ মিছিল «» সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনে জরুরি সভা আজ «» দুর্গাপূজা উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে «» নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন ৯৪৯৮, চলছে যাচাই-বাছাই «» দ্বিমুখী ক্ষতি থেকে অভিভাবকদের রক্ষা করুন «» টাঙ্গুয়ার হাওর : নৌ মালিক-চালকদের কাছে জিম্মি পর্যটকরা

মেয়াদ বাড়িয়েও ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হয়নি: দুই মেয়াদে কাজ হয়েছে ৬০ ভাগ

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়নবোর্ড হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। সরেজমিন বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে জনপ্রতিনিধিরা জানান, গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলার হাওরের ৬০ভাগ কাজ হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা আরও জানিয়েছেন এবার হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও লুকোচুরির আশ্রয় নিয়েছে। কর্মকর্তারা নিজেরাই বিভিন্ন স্থানে বেনামে কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদিকে প্রকৃতিতে বর্ষণ ও কালবৈশাখি ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ার কৃষকদের মনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা। কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো অনেক হাওরের ফসল অরক্ষিত বলে জানিয়েছেন কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে পিআইসি ও দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয় হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে ২৯ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে। এর আগেই একদফা বিল লোপাট করেছে পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসর উদ্দিন, খলিলুর রহমানসহ একটি সিন্ডিকেটের নেতৃত্বাধীন অসাধু কর্মকর্তারা। তারা প্রতিটি বিলের বিপরীতে পিআইসির কাছ থেকে নানা নামে কমিশন কেটে রেখেছেন বলে জানা গেছে।
ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের প্রথম দফা মেয়াদ শেষে আরো ১ মাস মেয়াদ বাড়িয়ে আনে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই মেয়াদও গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফা মেয়াদ শেষের পরেও হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের গড় কাজ এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।
জেলার দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ১২টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় প্রকৌশলীরা দুর্নীতি-অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ২১ মার্চ সাংবাদিকদের একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে বক্তব্য প্রদান করেন। এই দুই উপজেলায় সরকারি দলের ছত্রছায়ায় গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্তারা নেমেছেন তাদের নিয়ে মৌসুমী বাণিজ্যে।
বরাম হাওর পাড়ের কৃষক সামছুল হোসেন বলেন, বোয়ালিয়া ও তুফানখালি বেড়িবাঁধটি খুব দুর্বলভাবে মেরামত করা হয়েছে। অল্প বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ফসল তলিয়ে যেতে পারে যে কোন সময়ই। দিরাই উপজেলার কালিয়াগুটা হাওরে ৮১ লাখ টাকার ব্যয়ে দু’টি বড় বাঁধের কাজের বেনামি ঠিকাদার সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন আহমদ ও দিরাই সাব-ডিভিশনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলে জানা গেছে। পাউবো’র অবসরপ্রাপ্ত এক উপ-সহকারি প্রকৌশলী তার আগের কর্মস্থলে অবস্থান করেই এ দু’টি বাঁধের কাজের  দেখাশোনা করছেন। জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি খলিলুর রহমান ও আফসর উদ্দিন মিলেই জেলার সবগুলো হাওরের বাঁধ থেকে কমিশন নিয়েছেন। এবার সাংবাদিকদেরও তারা তথ্য দিতে গড়িমসি করেছেন।
রফিনগর ইউনয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, কালিকোটা হাওরের যে স্থানে দরপত্রের মাধ্যমে ৮১ লাখ টাকার কাজ হচ্ছে সেখানে হাওররক্ষা বাঁধের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। অপ্রয়োজনীয় এ বাঁধের ফলে সরকারের মোটা অংকের টাকা নয়ছয় হয়েছে।
বরাম হাওরের তুফান খালি, বোয়ালিয়া, চাপতি হাওরের বৈশাখী বাঁধ, উদগল হাওরের মাছুয়াখারা বাঁধ, সুরাইয়া বিবিয়ানা হাওর রক্ষা বাঁধ ও শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরের জোয়াইরা বাঁধসহ বিপজ্জনক স্থানগুলো এখনও অরক্ষিত রয়েছে বলে কৃষকরা জানান। নামকাওয়াস্তে এসব বাঁধের কাজ হলেও এখনো ফিনিশিং হয়নি। স্থানে স্থানে গর্ত রয়েছে। এসব বাঁধ নির্মাণের সময় বাঁধের গোড়া থেকেই মাটি কাটা হয়েছে।
শাল্লা উপজেলার ডুমরা গোদারাঘাট থেকে মুক্তারপুরের গোদারা ঘাট পর্যন্ত, কাশিপুর বাঁধ, সহদেবপাশা, শ্রীহাইল বাঁধেরন কাজ এখনো শেষ হয়নি। এসব বাঁধের কাজ শেষ হতে আরো ১৫দিন লাগবে।
শাল্লা উপজেলা চেয়ারম্যান গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, শাল্লা উপজেলায় এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের কাজ বাকি রয়েছে। এগুলো সম্পন্ন করতে হলে আরো ১৫দিন সময় লাগবে। যে বাঁধে কাজ হয়েছে সেগুলোও সন্তোষজনক নয় বলে তিনি জানান।
গত ১ এপ্রিল তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, মইল্যার হাওর ঘুরে এসেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। এসব হাওরের বাঁধের কাজ এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০ ভাগ হয়েছে বলে তিনি জানান। জানা গেছে এসব হাওরের বগিয়ানী, পাচকুইন্যা, মিশিনবাড়ি, আলমখালিসহ বিভিন্ন বাঁধের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। বাঁধের ফিনিশিং না দিয়ে, নিচ থেকে মাটি কেটে বাঁধগুলোকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমি গত ১ এপ্রিল শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, মইল্যার হাওরসহ একাধিক হাওরের ফসলরক্ষাবাঁধ এলাকা ঘুরেছি। এসব হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ আমার মতে মাত্র ৬০ ভাগ হয়েছে। তাছাড়া বাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে নিয়ে, প্রাক্কলন অনুযায়ী বাঁধে মাটি না ফেলে বাঁধগুলোকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখা হয়েছে। আমি সরেজমিন পরিদর্শনকালে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ফোনে বিষয়টি অবগত করেছি। এবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়মের পাশাপাশি ব্যাপক দুর্নীতিও হয়েছে। এসব কারণেই হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধগুলো এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে কৃষকরা জানিয়েছেন চলতি সপ্তাহ থেকেই বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হয়েছে। নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। কিন্তু হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় কৃষকরা ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় জন্য তারা পাউবোকেই দায়ী করেছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসর উদ্দিনের মোবাইল ফোনে শনিবার রাত ১০টায় যোগাযোগ করে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ কতটুকু হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন সিলেটে মিটিংয়ে আছি’। পরে তিনি লাইন কেটে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী